ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিধিনিষেধ আরোপ, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন বাতিলের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন।
বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়। তবে পরদিন ১০ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ, সড়কে ব্যারিকেড, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ২৪০টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
হলফনামায় স্বরাষ্ট্রসচিব দাবি করেন, ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি ছিল না। এর আগে ২০ জুলাই দলটির ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচিতে সহিংসতা ও সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল বলে তার বক্তব্য।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারও আদালতে দেওয়া হলফনামায় পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তার দাবি, গোয়েন্দা তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। অভিযোগকারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধের নির্দেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনে পুলিশকে নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদের বিকল্প স্থান নির্ধারণ নিয়ে আগের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ওই নির্দেশের সম্পর্ক কী, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
বিক্ষোভ ঘিরে বিরোধী নেতাদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘটনাও আদালতে গড়িয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার করা মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী জোটের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর কাছে জবাব চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ এসব বিষয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত বিবেচনা করা হবে।