ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবের কারণে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। তার এ বক্তব্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ফলে এমন কোনো সমঝোতা করা কঠিন, যা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকবে।
দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান অভিযান শুরুর পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। এরপর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ইরান প্রণালিটিতে অবরোধ আরোপ করে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
জাহাজ চলাচল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন রুবিও। তার দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। গত জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুই দেশের বিরোধের মূল বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা
সমঝোতার পথ তৈরি করতে সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন। সেখানে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বৈঠকসংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু না করার অবস্থান নিয়েছে ইরান।
এ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একাধিক বাধা রয়ে গেছে। একদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট কাটেনি। রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সংশয় রয়েছে।



