কোনো মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেফতারের মতো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হওয়ার মতো পরিণতিও ঘটতে পারে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়।
এর মাধ্যমে ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও আইনগত শর্ত সম্পর্কে সচেতন থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা হাতে থাকলেই যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশটিতে প্রবেশ করা বা সেখানে অবস্থান করার অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। ভিসার বৈধতা এবং কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা অবস্থানের যোগ্যতা প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার অভিবাসন অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও আইনি বিধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
তাই ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলা এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে আরেকটি বার্তায় মার্কিন দূতাবাস ভিজিটর ভিসা বা বি১/বি২ ভিসার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, এই ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আওতায় ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যেতে পারেন, ছুটি কাটাতে পারেন, কেনাকাটা করতে পারেন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সভা বা সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তবে বি১/বি২ ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাধারণ চাকরি করা বা অনুমোদনহীন কাজে যুক্ত হওয়া বেআইনি।
ভিসা যে উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য ও শর্ত মেনেই দেশটিতে ভ্রমণ এবং অবস্থান করতে হয়। দূতাবাসের বার্তাগুলোতে মূলত ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার হলেই প্রত্যেক ব্যক্তির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণ ও প্রযোজ্য আইনি বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।



