মহাকাশে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের সবুজ ও গোলাপি শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রগুলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে তাদের সম্ভাব্য রং ও রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এসব নক্ষত্রের ভেতরে জমা হওয়া রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করে অতীতে তাদের কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু ও পাথুরে মহাজাগতিক বস্তুর গঠন সম্পর্কেও জানা সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান মেলে, যার বর্ণালী থেকে সম্ভাব্য সবুজ রঙের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আরেকটি নক্ষত্রের বর্ণালীতে ফুটে উঠেছে স্যামন মাছের মতো গোলাপি রঙের বৈশিষ্ট্য।
রাসায়নিক গঠনেই রঙের রহস্য
শ্বেত বামন হলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ। এসব নক্ষত্রের রং ও বর্ণালীতে তাপমাত্রার পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় সম্ভাব্য সবুজ নক্ষত্রটিতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চ ঘনত্বের কার্বন অণুর সঙ্গে গোলাপি নক্ষত্রটির রঙের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
শ্বেত বামনের কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু বা পাথুরে বস্তু মহাকর্ষীয় প্রভাবে ভেঙে গেলে তার ধ্বংসাবশেষ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হতে পারে। এসব ধ্বংসাবশেষে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো উপাদান থাকে। সেগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রটির চারপাশে অতীতে থাকা মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বারগাসার এ প্রক্রিয়াকে অপরাধস্থলে পড়ে থাকা আলামত বিশ্লেষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, নক্ষত্রে জমা হওয়া ধ্বংসাবশেষের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য থেকে অতীতে কোনো গ্রহের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
বর্ণালী থেকে রঙের ধারণা
শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলো এত দূরে যে পৃথিবী থেকে খালি চোখে সরাসরি দেখা যায় না। তাই তাদের আলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করা হয়েছে। পেন স্টেট স্ক্র্যান্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিমের মতে, সবুজ নক্ষত্রের বিষয়টি বড় ধরনের নতুন আবিষ্কার না হলেও শ্বেত বামনের বৈশিষ্ট্য বোঝার ক্ষেত্রে এটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
গবেষক মার্ক হল্যান্ডস ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণের পরিকল্পনা করছেন। নতুন জরিপের তথ্য পাওয়া গেলে বিশ্লেষণযোগ্য নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে। এতে বর্তমানে শনাক্ত করা এক বা দুটি সম্ভাব্য সবুজ শ্বেত বামনের বদলে ভবিষ্যতে ১০ থেকে ২০টি এমন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




