আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিকভাবে নেক আমল করে যাওয়া একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের প্রতিটি ভালো কাজের পেছনে থাকা উচিত বিশুদ্ধ নিয়ত এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষা। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে নেক আমলে অবিচল থাকার বিশেষ মর্যাদার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কোনো বান্দা যখন ধারাবাহিকভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেক আমল করতে থাকেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহমত বর্ষণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর জিবরাইল (আ.) এবং আরশবাহী ফেরেশতারাও ওই বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন। পর্যায়ক্রমে আসমান ও পৃথিবীতে তার জন্য রহমতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে (হাদিস নম্বর ২২৪০৯)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য শুধু বড় কোনো কাজের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। বরং দৈনন্দিন জীবনে সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজ নিয়মিত করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইবাদত, মানুষের উপকার করা এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা বজায় রাখা একজন মুমিনের দায়িত্ব। নেক আমলের ক্ষেত্রে নিয়তের বিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের প্রশংসা অর্জন কিংবা দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই প্রতিটি ভালো কাজ করা উচিত। একই সঙ্গে নিজের আমলের ওপর অহংকার না করে আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে। কারণ প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর অনুগ্রহ অপরিহার্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ মেনে চলা, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত নেক আমল করার চেষ্টা করা উচিত। ছোট ভালো কাজকেও অবহেলা না করে আন্তরিকতার সঙ্গে তা চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ নিয়তে নেক আমল করার, সেই আমলে অবিচল থাকার এবং তাঁর রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।




