সরকার গঠনের পর বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা আল্লামা মামুনুল হক।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মামুনুল হক বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার।” ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল করা যাবে না—এমন সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর প্রস্তাব দেন মামুনুল হক।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, চুরি-ডাকাতি, হত্যা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ঘুষ আদায়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী ও মাওলানা আব্দুল আজিজসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।