ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষায় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক একটি পার্লামেন্টারি ককাস গঠনের প্রস্তাব নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন এবং এফওআরবি প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে ড. চার্লস রীড ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশের ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে।
তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে সংসদীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ককাস গঠন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত দেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ও সমান মর্যাদা দিয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সব ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে সংসদীয় ককাস গঠিত হলে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমান সংসদে বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তিনি এমন একটি সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রত্যেকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ স্বাধীনভাবে অনুসরণ করতে পারবেন এবং সবার অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।