দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখা এবং নদ-নদীর নাব্যতা বাড়াতে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৩৫টি ড্রেজারসহ মোট ১৬১টি জলযান সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটিএ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ সংশোধনে এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ড্রেজারের পাশাপাশি ক্রেনবোট, টাগবোট, স্পিডবোট ও অন্যান্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় কক্সবাজার, সিলেট-সুনামগঞ্জ ও পাইকগাছা-জামালপুরে অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এর সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান যুক্ত হলে নদী খনন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এতে নৌযান চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, নৌপথের উন্নয়ন ও নাব্যতা সংরক্ষণ সরকারের অগ্রাধিকার। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট ও ফেরিপথ সচল রাখা এবং প্রায় ১০০টি নদীর নাব্যতা উন্নয়নে বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।