শিশুদের ডিজিটাল পরিবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা, অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মস্কোয় ‘Digital Childhood Without Borders: Best International Practices for Child Safety Online’ শীর্ষক বিজনেস আইটি ব্রেকফাস্টে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে শিশুরা শিক্ষা ও বিকাশে অনলাইন জগতের সুযোগ পেলেও একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়; সরকার, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, শিশুদের তথ্য সুরক্ষা ও অনলাইন শোষণ থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট আইন ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ করছে। তবে শুধু আইন দিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও কার্যকর সমাধান বিনিময় জরুরি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়—এ তিন নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি, তথ্য চুরি ও অন্যান্য ডিজিটাল ক্ষতি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ, সৃজনশীল ও নির্ভয়ে ডিজিটাল জগৎ ব্যবহার করতে পারে—এমন ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।আন্তর্জাতিক এ ফোরামে শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।




