গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তি ও পণ্যে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাগ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হলেও উৎপাদন ব্যয় বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এসব সম্পদ নষ্ট না করে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ ৫৩টি আইটেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দেওয়া হচ্ছে। পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ও পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় এসব যন্ত্রপাতি কাজে লাগাতে হবে। গবেষণার সুযোগ সরকারি-বেসরকারি গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য উদ্ভাবন ও রপ্তানি বাড়াতে গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাটবীজে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাটপাতা ও পাটকাঠির ব্যবহার বাড়িয়েও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিজেএমসি, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও মালামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।




