সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে ২৫৪ কোটি ২০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ৮৭২টি শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কাপড়, ৩ লাখের বেশি কসমেটিকস সামগ্রী, ২ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি আতশবাজি, ৭১৩টি মোবাইল ফোন, হাজার হাজার মোবাইল ডিসপ্লে ও যন্ত্রাংশ, ৪ লাখের বেশি প্যাকেট চকলেট এবং বিপুল পরিমাণ জিরা, রসুন, চিনি, সার, কয়লা, পাথর ও চা পাতা। এ ছাড়া ১৫ লাখের বেশি চিংড়ি মাছের পোনা, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, কীটনাশক এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও নৌকাও জব্দ করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি এমজি, তিনটি রাইফেল, ছয়টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, অন্যান্য অস্ত্র, তিনটি ম্যাগাজিন, ৬৪ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং সালফারসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য। মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৫টি ইয়াবা, ৫৮ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪১৮ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৯২৫ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৭১৫ কেজি গাঁজা, বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ ও ট্যাবলেট এবং বিপুল পরিমাণ বিড়ি-সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তে মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে ৫৮ জন বাংলাদেশি, সাতজন ভারতীয় এবং ২০১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।