রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করেছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের তথ্য জানান। এ সময় লিউ হাইশিং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে লিউ হাইশিং বলেন, তারেক রহমানের বেইজিং সফরে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যে যৌথ ঘোষণা এসেছে, তার ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
এ সময় কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান।
আলোচনায় দুই দেশের রাজনৈতিক দলের যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ও স্থান পায়। চীনা প্রতিনিধি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় ১৩ লাখ মানুষের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনসংখ্যার কাঠামো ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে। জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে চীন অবগত রয়েছে এবং বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষেও দেশটির দূতাবাস ও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।




