ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশি নারী কারিগরদের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।