বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তার মতে, রাজনৈতিক মতভিন্নতা ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে রাজপথের কর্মসূচির পরিবর্তে সংসদে আলোচনা হলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও কার্যকর হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় স্থান পায় বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, সংসদীয় ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের প্রসার। এ ছাড়া শ্রমিকদের অধিকার এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত উদ্যোগের অগ্রগতিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
চিফ হুইপ জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী মহলের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কমিটির কার্যক্রমে বিরোধী পক্ষকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ এখনও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব আলোচনায় আসে। সংসদের বাজেট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতেও ইইউর সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের বিষয় উঠে আসে। শ্রম খাত নিয়ে আলোচনায় শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম জোরদার এবং শিল্পের স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন চিফ হুইপ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের গুরুত্বের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
বৈঠক শেষে দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হন।



