সরকারি কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমানো, দরপত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিদ্যমান অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুটি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
তিনি জানান, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০০৬ সালের মূল আইনটি বিভিন্ন সময়ে ছয়বার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করে সেটিকে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নতুন আইনের প্রস্তাবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, নারী এবং সুবিধাবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্রের নিয়ম আধুনিক করা এবং সীমিত দরপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি কেনাকাটায় পেশাগত অসদাচরণের বিধান আরও স্পষ্ট করা এবং জরুরি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিতে ক্রয়ের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ে জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত ক্রয় আইনের খসড়া নাগরিকদের মতামত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চূড়ান্ত যাচাইয়ের শর্তে মন্ত্রিসভা এতে অনুমোদন দিয়েছে।
অন্যদিকে, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জারি করা বিশেষ অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরু হলে অধ্যাদেশটি উত্থাপন করতে হয়। সে কারণে আইন প্রণয়নের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এদিনের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সহজ করতে হংকংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।




