সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক কোরবান আলীর মৃত্যুর পর চরম দুর্দশায় পড়েছে তার পরিবার। একসময় পরিবারের উপার্জনের প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হারিয়ে পরিবারটি এখন অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে মেয়ের পড়াশোনাও।
কোরবান আলী ইসলামপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক মুক্ত আলোর ইসলামপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর ইসলামপুর থেকে জামালপুর শহরে যাওয়ার পথে মেলান্দহ উপজেলার প্রতাপগঞ্জের খানপাড়া এলাকায় পেছন থেকে একটি ড্রামট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও এক নাতি রেখে যান। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তার মৃত্যুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তারা উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাননি। বর্তমানে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো এবং পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোরবান আলীর একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার। আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অসহায় অবস্থায় সন্তান ও নাতিকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক সময় খাবার জোগাড় করতেও পরিবারটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবান আলীর বাবা প্রয়াত আবদুল কাদের ওরফে কাদু মেম্বার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের রোকনাই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় শত বিঘা জমির মালিক ছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে কোরবান আলীর পরিবারের অভিযোগ, তার সৎভাই ও অন্য ভাইয়েরা ওই সম্পত্তি ভোগদখলে রাখলেও অসহায় পরিবারটির খোঁজ নেন না। এ বিষয়ে কোরবান আলীর বড় ভাই, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুস এবং পান্নার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
সাংবাদিক কোরবান আলীর পরিবারের এই দুরবস্থায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেতে পারে।




