দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৯ বছর বয়সী টিকা না পাওয়া শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল। সংক্রমণ বেশি এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা বেশি—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে প্রথমে সেসব এলাকায় টিকাদান জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
মূল্যায়ন দলের মতে, দীর্ঘদিন টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের বয়সসীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা, পরবর্তী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা আগেভাগে চূড়ান্ত করা এবং রোগ নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকা, ২০২৫ সালে হাম-রুবেলার টিকার মজুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়া প্রাদুর্ভাব বিস্তারের অন্যতম কারণ। দেশের উচ্চ জনঘনত্ব এবং সংক্রমণ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতিও পরিস্থিতি জটিল করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৭০ সদস্যের যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল এসব সুপারিশ তৈরি করেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে গত বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক কর্মশালায় মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
ছয় মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
হামের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ দল। সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এই বয়সী শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত টিকাদানের বয়সসীমা পাঁচ বছর করা হলে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে না পারা শিশুরাও পরবর্তী সময়ে সুরক্ষার সুযোগ পাবে বলে মনে করছে মূল্যায়ন দল। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় টিকাদান কার্ড যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৯ বা ২০৩০ সালে হতে পারে উল্লেখ করে এর প্রস্তুতি আগেভাগে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসায় নজরদারির তাগিদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করলেই হবে না; সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত, যথাসময়ে চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও কার্যকর রাখতে হবে। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করা এবং জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
টিকাদান কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে গবেষণা এবং নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের তথ্য পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, আক্রান্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোর চিকিৎসা পাওয়ার পথে আর্থিক বাধা কমাতে সহায়তা জরুরি। টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে সুরক্ষার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।