ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষেত্রে ইনজেকশনের বিকল্প তৈরির লক্ষ্যে মুখে খাওয়ার উপযোগী একটি ন্যানোক্যাপসুল নিয়ে গবেষণা করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক। গবেষকদের দাবি, পরীক্ষাগারে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যাপসুলটি আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। যবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণার লক্ষ্য হলো শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে ইনসুলিন সরবরাহের ব্যবস্থা তৈরি করা।
ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা উৎপন্ন ইনসুলিন যথাযথভাবে কাজ করে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ইনসুলিন রক্তের শর্করাকে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে এবং শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। প্রধান গবেষক ড. কিশোর মজুমদার বলেন, অনেক রোগী ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে অস্বস্তি বোধ করেন। এই সমস্যার বিকল্প খুঁজতেই তাঁরা মুখে গ্রহণযোগ্য ক্যাপসুল তৈরির উদ্যোগ নেন।
গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাপসুলটি শরীরের অগ্ন্যাশয়ের মতো কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো বিষমুক্ত ও জৈবভাবে ভেঙে যাওয়ার উপযোগী বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গবেষক দল ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে মানুষের শরীরে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, উপযুক্ত মাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা ও পরীক্ষা প্রয়োজন।
গবেষক জানান, সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মানুষের ওপর পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ন্যানোক্যাপসুল এখনো সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই গবেষণার ফল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রচলিত ইনসুলিন বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।




