সৌদি আরবে বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাকরি নিয়ে দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি। ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রা স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরাও। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, আবার কারও কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাড়তি যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি চাকরি হারানোর ভয়ও দেখা দিয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫১টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী। এর মধ্যে ১২টি সরাসরি এবং ৩৯টি অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থার মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ার।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও অনেকে বাড়তি ভাড়া ও আসনসংকটের মুখে পড়ছেন।
ভিসার মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরবে চাকরি পেতে অনেক কর্মীকে নিয়োগপ্রক্রিয়া, ভিসা ও যাতায়াতের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। কেউ কেউ ঋণ নিয়ে এসব খরচ মেটান। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে তাদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাদের দুশ্চিন্তা বেশি।
সৌদি আরবে চাকরি পেতে সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করা এক কর্মী ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। একইভাবে ছুটি শেষে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও ছুটি বাড়ানোর অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে, আবার বিকল্প ফ্লাইটের জন্য বাড়তি অর্থও ব্যয় করতে হতে পারে।
হতাহতদের ঘটনায় উদ্বেগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া ব্যক্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাশাপাশি নতুন করে দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের পরিবারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দেশটিতে দীর্ঘ সময় বিমান চলাচল ব্যাহত হলে নতুন কর্মীদের যাত্রা এবং ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে এ পরিস্থিতিতে কতজন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বা নতুন নিয়োগ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার নির্ভরযোগ্য সামগ্রিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাত্রীদের পুনরায় যাত্রার ব্যবস্থা, টিকিটের অর্থ ফেরত বা তারিখ পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। কর্মীদেরও নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং যাত্রার আগে বিমান সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সৌদিগামী বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর আর্থিক ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চাপ আরও বাড়তে পারে।




