পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। ষষ্ঠ দিনের কর্মসূচিতে বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সিগন্যালে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে তাদের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। মিছিলটি চীন মৈত্রী সিগন্যালে গিয়ে পৌঁছালে সেখানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পরে কর্মসূচি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে শেরেবাংলা নগরের গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় গণপূর্তের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
আন্দোলনকারীরা সড়কে প্রতিবাদী গান পরিবেশনের মাধ্যমেও তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, কৃষি গবেষণার জন্য নির্ধারিত মাঠের বিকল্প নেই। এই জায়গা হারালে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, তাঁদের কর্মসূচির কারণে নগরবাসীর যানজটের ভোগান্তি হচ্ছে, এ জন্য তাঁরা দুঃখিত। তবে কৃষি গবেষণার মাঠের গুরুত্ব সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। শহরে গাছপালা, পাখি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যের জোগানেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণার জায়গা সংকুচিত হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে সেটি হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ওই দিন জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ২ নভেম্বর মাঠটি চাষ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে মাঠের মালিকানা ও হস্তান্তর নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।




