সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় যোগ দেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠেয় সভাটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা তিনি ডাকসুর পক্ষ থেকেও দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েমের বক্তব্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন। কেবল সংবিধানের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না। তাঁর মতে, সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কার দুটি ভিন্ন বিষয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও এর মাধ্যমে বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বাইরে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
অতীতের কয়েকটি সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনে ডাকসু ভিপি বলেন, পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তাই মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার মতো উদ্যোগ শুধু সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর করলে ভবিষ্যতে তা আইনি সংকটে পড়তে পারে।
বিবৃতিতে জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদে সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও ক্ষমতায় পরিবর্তন আনা। এসব বাস্তবায়নে গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী আইনি পথ অনুসরণের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের বর্তমান উদ্যোগকে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলেও অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। জনগণের এই মতামতকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে দ্রুত একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি।