আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর কিছুটা কমার পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার কমে আসায় বিভিন্ন বাজারে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে নেমে আসে। এর আগে গত সপ্তাহে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া এই উদ্যোগের খবর তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ডলারের বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার কমে ৪ দশমিক ৯৭৪ শতাংশে নেমেছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৯৯ শতাংশে। উভয় হারই প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিলের মতে, ডলারের গতিপথ নির্ধারণে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির বন্ডের মুনাফার ব্যবধান কমে আসায় ডলারের ওপর চাপও কিছুটা কমেছে। মুদ্রাবাজারে সোমবার ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর ০.১৬ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১২২ ডলারে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ডলার সূচক সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে নেমেছে। অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ০.০৪ শতাংশ কমে ০.৭০৩০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ডলারের দর ০.০৬ শতাংশ বেড়ে ০.৫৭২ ডলারে পৌঁছেছে। জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১৫৬ দশমিক ৯২০ ইয়েন। চলতি সপ্তাহে পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব জাপান সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
অন্যদিকে ব্যাংক অব কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কী বার্তা দেয়, সেটিও বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৬ দশমিক ১৬ ডলারে নেমেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও দরপতন হয়েছে। বিটকয়েনের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৭৯ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮৪ ডলারে এবং ইথারের দাম ১.১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৭ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।




