আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে। প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক গতি, অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা এবং সেবা খাতের সম্প্রসারণের কারণে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সংস্থাটি। তবে ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে চাপ বাড়ছে।
আইএমএফের বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাসবিষয়ক প্রতিবেদনের হালনাগাদ সংস্করণে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও একই হারে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। এর ফলে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অবস্থান বজায় থাকতে পারে।
আইএমএফের মতে, অনুকূল জনমিতিক পরিস্থিতি, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ধারাবাহিক কাঠামোগত সংস্কার ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও ভারতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লেও আশাবাদ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় ভারতের জন্যও এটি ঝুঁকির কারণ। তবে তেলের দাম বাড়ার মধ্যেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা খাতের কার্যক্রম দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখছে বলে মনে করছে আইএমএফ।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট, দুবাই ফাতেহ ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৭ সালে গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৩৯ ডলারে নামতে পারে।
ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়লেও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক দুর্বল থাকার আশঙ্কা করছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসে ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অবশ্য বাড়িয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালে জার্মানির প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের অর্থনৈতিক গতি কমার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের দুর্বল পরিস্থিতি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সেবা খাতের সম্প্রসারণ ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে বলে আশা করছে আইএমএফ।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি




