বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু নীতিমালা প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষক’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা দেয় ক্লিন এয়ার ফান্ড।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণার তথ্য, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা জরুরি। ব্ল্যাক কার্বনসহ ক্ষতিকর দূষকের নিঃসরণ কমাতে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আউয়াল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওরিয়ান গুস্তাফসনসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আলোচনায় বায়ুদূষণ, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষকের নিঃসরণ কমাতে পারলে বায়ুর গুণগত মান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ ছাড়া জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে গবেষণার তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। নির্মল বায়ু নিশ্চিত করার কার্যক্রমকে জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু সুরক্ষার সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।