দীর্ঘ এক দশক বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যান। সকাল ১০টায় উদ্যানটির আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) উদ্যানটির আধুনিকায়ন করেছে। এতে যুক্ত হয়েছে সংস্কার করা লেক, ফোয়ারা, আধুনিক গ্রন্থাগার, ক্যাফেটেরিয়া, হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার ও শিশুদের বিনোদনের জায়গা। সবুজ পরিবেশে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগও থাকছে।
উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। স্টিলের পাতের ওপর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। রেলিংসংলগ্ন অংশে আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র সংযোজন করা হয়েছে। সামনে রাখা হয়েছে প্রতীকী কবর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মৃতিস্তম্ভটি নতুন প্রজন্মের কাছে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়াতে নতুন করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। পুরোনো লেক সংস্কারের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে পাকা হাঁটার পথ। গ্রন্থাগারের সামনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে জাদুঘরের জন্য জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্যানটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সাধারণ মানুষ উদ্যান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
নগরভবন, পুলিশ সদর দপ্তর, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও সচিবালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত ওসমানী উদ্যান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নগরবাসী এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আধুনিকায়নের পর উদ্যানটি চালু হলে বিশেষ করে পুরান ঢাকা ও মতিঝিল এলাকার বাসিন্দাদের অবসর, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




