পিএইচপি প্রযুক্তিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ দিনের সরকারি ছুটির সময় নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
অননুমোদিত প্রবেশের আশঙ্কা
বিভিন্ন ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া দুটি দুর্বলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টের তথ্যমতে, দুর্বলতা দুটি ‘পিএইচপি২শেল’ নামে চিহ্নিত। এগুলো কাজে লাগিয়ে অননুমোদিত ব্যক্তিরা পিএইচপি-ভিত্তিক ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট* জানিয়েছে, নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের পর ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিম ত্রুটি দুটি সংশোধনের জন্য জরুরি নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার হালনাগাদ করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ওয়েবসাইট চালুর সময় জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও আর্থিক খাতের অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সচল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার বিষয়টি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সফল সাইবার হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।