গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের গবেষণার মাঠ ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের কাছে জড়ো হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সড়ক অবরোধের কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, প্রশাসন দ্রুত নিচে নেমে না এলে প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের লাগাতার স্লোগানের মুখে একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর এবং স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক নিচে নেমে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এর আগে একই দাবিতে গত ২৯ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত ২ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে মাঠের অবশিষ্ট স্থাপনা সরিয়ে একাংশে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেন।
পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয় গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন বা স্থবির করার ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রয়েছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের গবেষণা মাঠ রক্ষায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও মাঠ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাধ্য হয়েই আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এই কঠোর কর্মসূচিতে নামতে হয়েছে। গবেষণা মাঠ রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “আইনি লড়াই চালানোর জন্য যে কাগজপত্র প্রয়োজন আমরা সেগুলো আমাদের কাছে ছিল না আমরা সবগুলো একসাথে করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব। "




