সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধ, জলজ প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নবীন-প্রবীণরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করো, সুন্দরবনের প্রাণ রক্ষা করো’ স্লোগানে আয়োজিত ‘বিষমুক্ত সুন্দরবন, নবীন-প্রবীণের আবেদন’ কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়।
বারসিকের সহযোগিতায় গ্রীণ কোয়ালিশনসহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গ্রীণ কোয়ালিশন শ্যামনগর পৌরসভার সভাপতি ও সাবেক শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার, ঈশিতা ও মেহজাবিন সুলতানা যৌথভাবে আবেদনটি পাঠ করেন।
আবেদনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিভাগের একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ১৪৭টি খালের মধ্যে ৩১টিতে সর্বাধিক, চারটিতে মাঝারি এবং ৩৩টিতে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গবেষণায় উল্লেখিত ৬৮টি খালে বিভিন্ন মাত্রায় এ প্রবণতা শনাক্ত হয়েছে।
আবেদনকারীরা বলেন, বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে মাছের পোনা, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মাছের প্রজনন, খাদ্যশৃঙ্খল ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষাক্ত মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক মজুত কমে গেলে বৈধভাবে মাছ আহরণকারী জেলেদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ খালগুলোতে নিয়মিত টহল ও আকস্মিক অভিযান, বিষ প্রয়োগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, বিষাক্ত রাসায়নিকের অবৈধ ব্যবহার ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষ দিয়ে ধরা মাছের সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা। এ ছাড়া খালের পানি ও জলজ প্রাণীর ওপর বিষের প্রভাব পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, বন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও বনজীবী নারীদের সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবেদনকারীরা বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আবেদনকারীদের অবহিত করার আহ্বান জানান তারা।