শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে সিরাজগঞ্জ শহর। সন্ধ্যা নামতেই সড়কের দুই পাশে জ্বলে উঠছে রঙিন আলোকসজ্জা। মন্দির ও পূজামণ্ডপের দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা, ঢাকের বাদ্য আর মানুষের উচ্ছ্বাসে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, বিপণিবিতান থেকে পূজামণ্ডপ—সবখানেই দুর্গোৎসবের ছোঁয়া। আলোকসজ্জায় বদলে গেছে পরিচিত পথঘাটের চেহারা। সন্ধ্যার পর থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপ দেখতে বের হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন উৎসবের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণ-তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য আর বয়োজ্যেষ্ঠদের হাসিমুখে মুখর হয়ে উঠছে শহরের রাস্তাঘাট ও পূজামণ্ডপ। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে ফুচকা, ঝালমুড়িসহ বিভিন্ন পথখাবারের দোকানেও।
মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও আরাধনা। শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি প্রতিমা, রঙের বৈচিত্র্য এবং নান্দনিক সাজসজ্জা মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। ঢাকের বাদ্য, কাঁসার শব্দ, ফুল-ফল ও নানা নৈবেদ্যে দেবী দুর্গার আরাধনায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তবে দুর্গোৎসব এখন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মণ্ডপে ঘুরে উৎসব উপভোগ করছেন। শুভেচ্ছা বিনিময়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মিলনমেলায় দুর্গাপূজা হয়ে উঠেছে সবার আনন্দের উপলক্ষ।
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যে পূজামণ্ডপের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও প্রকাশিত তথ্যে এ বছর জেলায় ৫৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।




