আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে রংপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ২টায় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল এ স্মারকলিপি পেশ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মেহেদী হাসান তরুণ ও মাহবুব আলমসহ অন্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সবার সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।
এ লক্ষ্যে মহানগরীর সব মন্দির ও পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিদ্যমান ক্যামেরা সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত যোগাযোগের হটলাইন চালুরও দাবি জানায় কমিটি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি, গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত নিরাপত্তা সভা আয়োজনের পাশাপাশি নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপদ যাতায়াত, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং নাগরিকদের সহযোগিতায় রংপুরে নিরাপদ ও সম্প্রীতিময় দুর্গোৎসব উদ্যাপন সম্ভব। স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।