নেত্রকোনায় মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা ভারতীয় মদের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-পূর্ব) জব্দ তালিকায় তিন বোতল ‘এসি ব্ল্যাক’ মদের আনুমানিক দাম দেখানো হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ একই রাতে কলমাকান্দা থানা পুলিশের জব্দ তালিকায় একই ব্র্যান্ডের মদের বোতলপ্রতি দাম দেখানো হয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাইশধার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে বিশ্বজিৎ সরকার জয় (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে ডিবি-পূর্বের একটি দল। তার কাছ থেকে তিন বোতল ভারতীয় ‘এসি ব্ল্যাক’ মদ উদ্ধার করা হয়। বিশ্বজিৎ কিশোরগঞ্জের পূর্ব তারাপাশা এলাকার কৃষ্ণপদ সরকারের ছেলে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ডিবি-পূর্বের এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রতিটি বোতলের মূল্য ছয় হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। অন্যদিকে, কলমাকান্দা থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে উদ্ধার করা একই ব্র্যান্ডের ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলের দাম তিন হাজার টাকা এবং ৩৭৫ মিলিলিটারের বোতলের দাম দুই হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
দুই এলাকার দূরত্ব প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। একই রাতে উদ্ধার করা একই ব্র্যান্ডের মদের দামে এমন ব্যবধানের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে কলমাকান্দা পুলিশের নির্ধারিত মূল্য বাজারদরের সঙ্গে মেলে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলও অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জব্দ তালিকায় মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।