পাঁচ দফা দাবির একটি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রাঙ্গামাটির সাজেকে চলমান সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি। সোমবার সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও সংকটের সুরাহা না হওয়ায় পর্যটক প্রবেশ ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবারও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আশা জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।
সাজেকের উজোবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তাদের সঙ্গে দুই জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমাসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে চতুর্থ দাবিতে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সরকারপক্ষ এ বিষয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
রাত পৌনে ৮টায় ভিডিও বার্তায় বাবুধন চাকমা বলেন, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলবে। নিরাপত্তার কারণে পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেন তিনি।
পরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, চারটি দাবিতে সমঝোতা হয়েছে। বাকি দাবিটি নিয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীপেন দেওয়ানও আলোচনাকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, একটি বিষয় অমীমাংসিত থাকলেও সেটির সমাধানের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। ‘ওরাও শান্তি চায়, আমরাও শান্তি চাই’—বলেন তিনি।
এদিকে, সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। সভায় সাম্প্রতিক সংঘাত, আন্দোলনকারীদের দাবি এবং পর্যটন খাত ও স্থানীয় ব্যবসা সচল রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সংকটের কারণ ও সমাধানের পথ খুঁজতে গঠিত তিন সদস্যের সার্চ কমিটিও কাজ করছে।
অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনজীবনেও বিঘ্ন ঘটছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার ও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
তবে আন্দোলনকারীরা পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সাজেকের পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।