সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচনে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়ম প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কাউখালী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব হোসেন।
সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী একযোগে প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাবের মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রান্তিক ও অসচ্ছল পরিবারগুলোর অবস্থা যাচাই এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার পাওয়ার উপযুক্ত পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
কর্মকর্তারা বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পরিবারের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সদস্যসহ সবার সঠিক তথ্য দিতে হবে। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য না দিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন হোসাইন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আওয়ালীন খারেক। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পাইচিং মং মারমা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, সহসভাপতি অর্জুন মনি চাকমা, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মো. শওকত হোছাইনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, কাউখালীর চারটি ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহের জন্য ২৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও দুজন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে ট্যাব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।