রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশের ১৪টি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের দুটি এলাকায় দুই দফায় এসব গাছ কাটা হয়েছে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। তবে অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই সরকারি রাস্তার পাশের গাছগুলো কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় গাছ কাটার স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্রসহ একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। এরপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়া বাজারসংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে চারটি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয় শিক্ষক আবু বক্কারের বিরুদ্ধে এসব গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে গাছ কাটার পরও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষক আবু বক্কারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারুই মোড় এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ১০টি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা হিসাবে ১০টি গাছের মোট মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মতিউর রহমান। তার দাবি, তিনি নিজের জমির গাছ কেটেছেন এবং গাছগুলো নিজেই লাগিয়েছিলেন। তাই কাউকে ম্যানেজ করার প্রশ্ন আসে না।
এদিকে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার ঘটনায় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুঠিয়া উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গাছ কাটার ঘটনায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, গাছ কাটার অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ২১ অক্টোবরের ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন। সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।