মশার লার্ভা নিধনে কার্যকারিতা না পাওয়ায় প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে ওষুধ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়ে সরবরাহ করা ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি।
কেসিসি সূত্র জানায়, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা দমনে সম্প্রতি ৫৬ লাখ টাকায় দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) কেনা হয়। সরবরাহ করা ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর মাত্র ১২ শতাংশ লার্ভা মারা গেছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় কার্যাদেশ বাতিলের পাশাপাশি ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডের (ডিপিএম) মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নতুন ওষুধ সরবরাহ পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সাধারণত প্রতি লিটার লার্ভিসাইডের দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও ডকইয়ার্ড থেকে কেনা নতুন ওষুধের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হবে। নতুন ওষুধ ছিটানোর আগেও মান পরীক্ষা করা হবে।
উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহৃত সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হয়। পরিদর্শন শেষে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মশারি টাঙিয়ে তার ভেতরে মশা রেখে ফগার মেশিনের ধোঁয়া প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বেশিরভাগ মশার স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ওষুধ কার্যকর প্রমাণিত হলেই তা ছিটানো হবে, অন্যথায় বিকল্প ওষুধের কথা ভাবা হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসক বলেন, খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এ জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক সহযোগিতাও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচির এক মাস পার হয়েছে, বাকি দুই মাসও কার্যক্রম চলবে।
কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর তথ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।