ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, দেশমাতৃকার সন্তান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের সব মানুষের অধিকার সমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা পরিদর্শন ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার কায়সাল কামাল বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানের অঞ্চল। এখানে গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, এক ধর্মের মানুষের প্রতি অন্য ধর্মের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই প্রকৃত বাংলাদেশের পরিচয়। এখানে ধর্মীয় বিভেদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে নীতি, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের শিক্ষা দেয়। দুর্গাপূজার পাশাপাশি ইসলামের রোজা ও ঈদ এবং খ্রিষ্টধর্মের বড়দিনও মানুষকে ভালো গুণাবলি অর্জনের বার্তা দেয়। এলাকার দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রেখে উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশিক্ষিত মা ছাড়া সুশিক্ষিত জাতি গঠন সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তুলতে প্রতিটি সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের মহারাজ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ডেপুটি স্পিকার পূজারিদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের মঙ্গল কামনা করেন।