কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাবারড্যাম অচল থাকায় কৃষিকাজে মিষ্টি পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নদী ও খালে ঢুকে পড়ছে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি। বৃষ্টির অভাবে আমন ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, অনেক জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। এমন পরিস্থিতিতে চলতি আমন মৌসুমের ফসল রক্ষা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে আগামী বোরো আবাদ নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
উপজেলার গোঁয়াখালী মাতবরপাড়া-বুধামাঝির ঘোনা, বাঘগুজারা-পুরিত্যাখালী এবং বারবাকিয়া-মৌলভীবাজার এলাকার তিনটি রাবারড্যাম সচল না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দ্রুত ড্যামগুলো চালু করে মিষ্টি পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আমন উৎপাদনে ক্ষতির পাশাপাশি বোরো চাষেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধানে থোড় আসার সময় জমিতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। কিন্তু খাল ও নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাবারড্যাম অচল থাকায় মিষ্টি পানির মজুতও গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও বাড়ছে।
আমন চাষি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাঠের পর মাঠ শুকিয়ে ফেটে গেছে। লবণাক্ত পানির কারণে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত মিষ্টি পানির ব্যবস্থা না হলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাবারড্যামগুলোর সংস্কার না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আজিম জানান, ভোলার খালসহ পেকুয়ার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খালে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পূর্ব মেহেরনামাসহ এলাকার রাবারড্যামগুলো দ্রুত ফুলিয়ে পানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পেকুয়ায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমে চাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর।
তবে আমন আবাদ নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে রাবারড্যামগুলো পরিদর্শন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে ড্যাম সংস্কার করা হয়। এর আগে ড্যাম ফুলিয়ে পানি ধরে রাখার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
ড্যাম সংস্কারের নির্ধারিত সময়ের আগে সেচসংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে চলতি আমনের ক্ষতির পাশাপাশি আগামী বোরো মৌসুমেও এর প্রভাব পড়বে।