দেশের অবকাঠামো উন্নয়নকে টেকসই ও নিরাপদ করতে প্রকৌশল শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (সিইএএ-ইউএপি) ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না; এর স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা, নির্মাণমান, পরিবেশগত প্রভাব ও জনস্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা এবং দেশের ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা জরুরি।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক নির্মাণপদ্ধতি প্রকৌশল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অ্যালামনাই সংগঠনগুলোকে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী প্রকৌশলীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, মেন্টরশিপ এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।
ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীদের পেশাগত অর্জন ও সমাজে অবদান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক শক্তিশালী হলে বর্তমান শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে নেতৃত্বের বিকাশ, গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, আইইবির ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার, আইইউটির অধ্যাপক ড. মো. তারেক উদ্দিন, ইউএপির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. জি আর আহমেদ জামাল এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ জামাল উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রত্যাশা, নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারিত হবে।