সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে শোনেন। তাই জুমার খুতবার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে ইমামদের এগিয়ে আসতে হবে। সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বর্তমানে সেই তহবিল বেড়ে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপি চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।