রংপুরে আবারো গণপিটুনিতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অটোরিকশা চুরির অভিযোগ তুলে মসজিদের মাইকে ‘চোর’ ঘোষণা দেওয়ার পর দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে গণপিটুনিতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন একই উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের এনতাজ মিয়ার ছেলে রেজাউল ইসলাম ওরফে কানা (৫০) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের আইয়ুব আলীর ছেলে ছাদেকুল ইসলাম (২৫)।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস
ছবুর।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর
বাগেরহাট গ্রামের উত্তর পানাপুকুর এলাকার পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেলে এ
হত্যার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রোববার ভোরে বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান।এ সময় তার চিৎকার শুনে পাশের মসজিদের ইমাম বিষয়টি বুঝতে পেরে মসজিদের মাইকে ‘চোর, চোর’ বলে ঘোষণা দেন। মাইকে এমন ঘোষণা শুনে ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিসহ স্থানীয় লোকজন অটোরিকশাসহ ওই দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন। লোকজনের ধাওয়া খেয়ে ওই দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাদের পিছু নেন ধাওয়াকারীরা। একপর্যায়ে সোহেল
মিয়ার বাড়ি থেকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর পানাপুকুর এলাকার পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেলে তাদের আটক করা হয়।সেখানে স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে।
এঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে নেয়।এ সময় সিআইডি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন টিমকে অবহিত করা হয়। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে।নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাহয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ।
গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়া
সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতদের বিরুদ্ধে আগে থেকে
কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হবে।