বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার মোংলার নারিকেলতলা মাঠে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই!’ স্লোগানে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষা আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। তিনি একনেকের মাধ্যমে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আকমল পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে গবেষক ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকেন্দ্রিক জ্বালানি নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। বাঘের অভিনয়, পুতুলনাচ, বাউলগান ও গাজীর গানের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।




