দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় আবারও ইলিশ শিকারে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জেলেরা। জাল মেরামত, নৌকা ও ট্রলার প্রস্তুতসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেছেন তারা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন উপজেলার প্রায় ৯ হাজার জেলে।
মা-ইলিশ রক্ষায় গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুত, কেনাবেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পরিচালিত অভিযানে তিন লাখ মিটার জাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ষাটনল মালোপাড়ার জেলে ঋষিকেশ বর্মন ও মহি পাল এবং এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জেলে ইব্রাহিম জানান, ট্রলার মেরামত, নতুন জাল তৈরি ও পুরোনো জাল সেলাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন নদীতে নেমে মাছ ধরার অপেক্ষা।
তবে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক জেলে। ছটাকী এলাকার জেলে মোবারক হোসেন বলেন, এ সময়ে সরকার থেকে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। আট সদস্যের পরিবারের জন্য এই চাল যথেষ্ট নয়। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হয়েছে।
চাঁদপুরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত রয়েছে ২৬ কিলোমিটার নদীপথ।
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে অভিযান সফল করা হয়েছে। এবার ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলে জেলেরা প্রচুর মাছ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রশাসন আন্তরিকতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেছে। মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিযান সফল করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।