খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর পরিচালিত পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারে।
প্ল্যান্টটি চালু হলে গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার, পলিথিন ও প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজারের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, কেসিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) যৌথ সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ অন্যত্র সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল জানান, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল খুলনায় আসে। গত ৩ অক্টোবর পরীক্ষা শেষে দলটি ঢাকায় ফিরে যায়। পরীক্ষায় উৎপাদিত প্রায় ১০ লিটার জ্বালানি তেল আরও বিশ্লেষণের জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেবে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ডুমুরিয়ার সলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরডিপি-২) আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর বাস্তবায়ন কাজ করছে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সলুয়ার প্ল্যান্টটি আগামী ডিসেম্বরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বটিয়াঘাটার মাথাভাঙ্গায় আরেকটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং রাজবাঁধ ট্রান্সফারিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প চালু হলে খুলনা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।