শারদীয় দুর্গাপূজায় নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। টানা পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে সিটি করপোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। দুর্গাপূজা ঘিরে নগরের পূজামণ্ডপগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজা শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
মহালক্ষ্মী মন্দিরে কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা, মন্দিরের পরিচ্ছন্নতা ও আশপাশের এলাকার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রশাসক।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সর্বজনীন পূজামণ্ডপের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত পূজাতেও যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। তিনি নিজেও বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করে প্রস্তুতির খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
কোনো পূজামণ্ডপে সমস্যা দেখা দিলে আয়োজকদের দ্রুত সিটি করপোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হটলাইন ছাড়াও প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। পূজার সময় সিসিকের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ধর্মীয় উৎসবকে সবার উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ধর্ম বা পরিচয়ের ভেদাভেদ না করে নগরবাসীকে সেবা দেওয়া সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে তিনি আয়োজক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, মহালক্ষ্মী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, সাধারণ সম্পাদক জনার্দ্ধন চক্রবর্তী মিন্টু, সহসভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, চন্দন দাস ও মিন্টু দাস, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত কর এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক প্রতাপ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নন্দন পাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোজ তালুকদার, লাভলু দেব, নান্টু দাস, অহিভূষণ দেব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গৌছ উদ্দিন পাপ্পু, শুভংকর দাস, নিরু দেব এবং সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




