খুলনার শিববাড়ী মোড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্রে কালো কালি দিয়ে বিকৃত করার ঘটনার পর সেটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পুলিশের সহায়তাও চেয়েছে কেসিসি।
শনিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালচিত্রটি দেখতে গিয়ে প্রশাসক বলেন, রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিকের প্রতিকৃতি নষ্ট করা অত্যন্ত অসম্মানজনক। ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তার বহিঃপ্রকাশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি চিত্র মুছে ফেলে কোনো ব্যক্তির অবদান কিংবা অস্তিত্ব মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন ও এস এম সুলতানের মতো ব্যক্তিত্বরা দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের প্রতিকৃতি বিকৃত করার মাধ্যমে জাতীয় ঐতিহ্যকেই অসম্মান করা হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, শুক্রবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় ঘটনার সময় এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে।
এর আগে শুক্রবার শিববাড়ী মোড়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির মুখ কালো রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেখানে দুটি পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবির ভূমিকা নিয়ে আপত্তি এবং ভারতবিরোধী বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। তবে এ কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে কেসিসির উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যভিত্তিক চিত্রকর্ম আঁকা হয়েছে। এসব শিল্পকর্মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম বিকৃতির ঘটনা নগরজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।