পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৭টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন তারা। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে উঠছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০০টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ৭৮৭ জন এবং শিক্ষার্থী ২৩ হাজার ৭৭৯ জন। এর মধ্যে ৪৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, দাপ্তরিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
পাকশীর রূপপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। প্রায় তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষক মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো বেশ কঠিন।
যুক্তিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান কোরেশী বলেন, পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনের সময় ছুটি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার ২০১৮ সাল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, কাজের চাপ থাকলেও শিক্ষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার জানান, অবসর, পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এতে পাঠদানের পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ মাস ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। আর চরকূরুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১ বছর ধরে পদটি শূন্য। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।




