রংপুরের আট উপজেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবারে ৯৬৪টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। বুধবার বিজয়া দশমী। চন্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দশমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন।এরপর অপরাজিতা পূজা, দশোপচারে দেবীর আরাধনা,গণেশসহ অন্যান্য দেবদেবীর পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি,দুর্গা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সমাপনপর্ব।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্পণ ও ঘট বিসর্জনের পর শুরু হয় দেবীবরণের আয়োজন। এ সময় বিবাহিত নারীরা একে একে দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। এরপর একে অপরের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে উদ্যাপন করেন সিঁদুর খেলা।সিঁদুর খেলার এই আয়োজনে দেবীর কাছে সংসারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন নারীরা।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর চরণে নিবেদিত সিঁদুর ঘরে সংরক্ষণ করলে সংসারে মঙ্গল ও সমৃদ্ধি আসে। তাই দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার প্রত্যাশা নিয়ে বিজয়া দশমী উদ্যাপন করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায়ের সুরে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলার বিভিন্ন পুকুর,নদী,বিলে দেবীকে বিষর্জন দিয়েছেন ভক্তরা।সেই সঙ্গে আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন তারা।
এদিকে রংপুরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ১৬৪টি মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।গত বছরের তুলনায় এবার সংখ্যায় নগরীতে ১০টি পূজামন্ডপ বেড়েছে।জেলার আটটি উপজেলায় ৮০০টি মন্ডপে দুর্গোৎসব হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদরে ৯৪টি, গঙ্গাচড়ায় ৯৯টি, তারাগঞ্জে ১৬৫টি, বদরগঞ্জে ১২৫টি, মিঠাপুকুরে ১৫১টি, পীরগঞ্জে ১০০টি, পীরগাছায় ৯১টি এবং কাউনিয়ায় ৭৫টি মন্ডপে হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ।




