গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন। নিহতদের মধ্যে বাবা-ছেলে এবং একটি বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬)। তারা বাসটির যাত্রী ছিলেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, রংপুর থেকে সিলেটগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌরভ ও আসিফের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। তাদের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, সকালে কুটুমবাড়ি হোটেলের পাশে মহাসড়কের বিআরটি লেনের পূর্ব দিকে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-ছেলেকে একটি অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দেয়। তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোর সোয়া ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জন আহত হন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ডভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।
নিহতরা হলেন বাসটির সুপারভাইজার রোকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৭), হেলপার চঞ্চল বিশ্বাস (২৩) এবং যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাকিব (৩২)। তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শ্রীনগর হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




