নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ফেদি বাজার ঘাট এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা। এখন অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সেতুটি কবে চালু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত সেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদারকে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে।
সেতুটি চালু হলে লোহাগড়ার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের জেলা সদরে যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় বর্তমানে নদী পারাপারে স্থানীয়দের ভরসা মাত্র দুটি ছোট নৌকা। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে মানুষকে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
ফেদি বাজারের মুদি দোকানি দুলাল মোল্যা বলেন, দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি। ভুমুরদিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী আনিস সরদার বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, বারবার সময় দেওয়ার পরও কাজ শেষ করতে না পারায় আইসিএলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে চার কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করে সেতুটি চালু করা হবে। এতে পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত, রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে।