বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ধূমকালিপুর গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, মাছ লুট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযুক্তদের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিবারের সদস্য মোজাহিদুল মৃধা। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোজাহিদুল মৃধা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমি ইজারা নিয়ে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ওই ঘেরের মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রায় ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিপক্ষকে ইজারার টাকা গ্রহণ অথবা তাঁদের জমি আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাঁরা তাতে সম্মত হননি বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এর আগেও একাধিকবার তাদের ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তারা ঘেরে মাছ ধরতে গেলে জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি, মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মোজাহিদুলের বাবা আলী মৃধাসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা আহত হন। তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোজাহিদুল মৃধার অভিযোগ, হামলার সময় ঘের থেকে মাছ ও জাল নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ধারদেনা করে ঘের ইজারা নিয়ে মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা। মাছ বড় হলেও বিরোধের কারণে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি। এর মধ্যে হামলা, মাছ লুট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আহত স্বজনদের চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অভিযুক্তদের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযুক্ত কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। পরিবারের দাবি, হাসান দর্জি অতীতে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব ছিলেন এবং মারুক দর্জি ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত কয়েকজন বর্তমানে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজের সঙ্গে চলাফেরা করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান মোজাহিদুল।
তিনি বলেন, তারা কারও প্রতি প্রতিশোধ নিতে চান না। মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে চান। এ জন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘেরের জমি নিয়ে বিরোধের আইনসম্মত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিনহাজ মৃধা বলেন, তারা তাদের বাড়িতে এসে ভাঙচুর করেছেন। তাকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের ভয়ে তার বাবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও দাবি করেন মিনহাজ।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।